"যখন পানি উঠেছিল ঘরের ভিতরে, বৃষ্টি হইতাছে, তখন আমি আমার বাচ্ছা দুইটা চৌকিত বসাই রাখছি। তখন ঘরে পানি উঠছিল, আরও কয়েকবার পানি উঠেছিল এরুম কইরা. এরুম হইনাই কোনদিনও। তরপর বাচ্ছা দুইটা চৌকির উপর এরুম কইরা খেলতাছিল. আমি নীচের দিকে বইসা কাজ করতাছি. এদিকে পাহাড় পইরা, আমার দুটি ঘর সহকারে এইখানে নিয়া ফাইলা দিছিল । ঐ জাইগাতে। পরে আমিও ঘরের তলে রইছি। আমি কোন কিছু দেহি না। তারপর আমি বেড়া ভাইঙ্গা বেরহইছি। ্রাহিরের পর আমি বাচ্চা খুজতাছি, আমি আমার বাচ্চা পাইতাছি না। এরপর হে ঘরটার ভিতরে পচিশটা বাধ লাগাইছে, গিয়ে দেহি, তিনওটা ঘর আমরে নিয়ে ঐদিকে ফালাইছে। আর কোন কিছু আমি কইতে পারি না।" এভাবে সন্তান হারা মা, আকলিমা তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করলেন।
বন্দর নগরী চট্টগ্রামে গত তিন দশকে ভুমিধসের ফলে দু'শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অপরিকল্পিত পাহাড়কেটে ঘরবাড়ী তৈরী , অস্বাভাবিক মৌসুমী বৃষ্টি, সাগরে জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৃনিধন ও প্লাবনই এ ভূমিধসের কারণ। নগরীর চারপাশে অবস্থিত পাহাড় গুলোতে ১১ও ১২ জুন দুই-দুই বার ভয়ঙ্ক্কর ভুমিধস হয়েছে। দু'দিনের এ ভুমিধসে একশ' আট জন প্রাণ হারায়।
আপনার হাজভেন্ট যখন মারা গেছিল, তখন পানিও ঘরের ভিতর ছিলেন ?
" উনি দরজাতে আছিল । আমি চৌকির উপর আমার বাচারে নিয়া বইসাছিলাম। ঘরের পানি সেচতাছিল।" ( পিছন থেকে পাহাড় ভেঙ্গে পড়ল। ) .
এভারে আদরের ছেলে-মেয়ের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ের মাটিতে চাপা পড়ে যায জীবন ও স্বপ্নগুলো। পাহাড়ের পাদদেশে বাস করা হতদরিদ্র পরিবার গুলোর পাশে সরকার জরুরী খাদ্য ও সহযোগিতা আসলেও স্থায়ী পূর্ণবাসনের জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। এমনকি পাহাড়ওয়ালা মাসে মাসে ভাড়া নিলেও তাদের ভেঙ্গে যাওয়া ঘরগুলো ঠিক করে দেয়নি। তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।
বস্তিবাসীর আবেদন, " আমারা দিন আনি দিন খাই । আমরা অস্থায়ী । এখন ঘর ভাঙ্গা অবস্থায়, আহত অবস্থায় , আমাদের কেউ সাহায্য করতো। তাহলে অনেক উপকার হতো।.."
পাহাড় কাটা বিরোধী সরকারী বিবৃতি থাকলেও এখনো আগের মতো অপরিকল্পিত ভাবেই পাহাড় কাটা চলছে। স্থানীয় তথাকথিত প্রভাবশালী পাহাড় মালিকরা বস্তী ভাড়া দিচ্ছে। ফলে দরিদ্র-প্রান্তিক মানুষের জীবনের ঝুকি এখনো রয়ে গেছে। ভূমিধসে তিগ্রস্থ এসব পরিবার গুলোকে চরম দারিদ্র ও দুর্ভোরগ থেকে রা করা খুবই জরুরী।
স্ক্রিপ্ট ও মাল্টিমিডিয়া : শাহজাহান সিরাজ
ধারা বর্ননা : আব্দুল হাই
কপিরাইট : মাচিজো মাল্টিমিডিয়া
|